আজকের এই প্রযুক্তিবিদ্যার যুগে অনেক অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে বিজ্ঞানীরা। ঘরে বসেই হাইস্পিড ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহার, বুলেট ট্রেন, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন, বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যবহৃত মেশিন, যেমন:- এসি, হিটার, মাইক্রোওয়েভ, চিমনি প্রভৃতি আরও কত কী!!! কিন্তু এরই মধ্যে আরও এক অবিশ্বাস্য আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আমেরিকার ইউএস ন্যাভাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি (NRL) এর বিজ্ঞানীরা। তার ছাড়াই বহুদূর অবধি বিদ্যুৎ ট্রান্সফার করে উনারা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে সাড়া ফেলে দিয়েছেন।

বর্তমান টেকনোলজির যুগে বিভিন্ন রকম বৈজ্ঞানিক আবিষ্কৃত গ্যাজেট মানুষের জীবনের এক অঙ্গ হয়ে উঠেছে। মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমে সকলেই বাড়িতে বসে স্মার্টফোনের মাধ্যমে কোনোরকম তার ছাড়াই হাইস্পিড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ পরিচালিত যন্ত্রগুলো, যেমন:- ফ্যান, লাইট, ফ্রিজ ইত্যাদি প্রায় সবকিছুতেই ইলেকট্রিসিটি পরিবহণের জন্য তারের প্রয়োজন হয়। তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহণের এই পদ্ধতি তাই কিছুটা পুরোনো হয়ে গিয়েছে। তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে বহু শহরেই তারের জঞ্জাল সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে যার ফলে মুহূর্তের মধ্যেই যেকোনো রকম ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বৈজ্ঞানিকরা ভাবতে লাগলেন যে, এমন কোনো পদ্ধতি আবিষ্কার করা যায় কিনা যার মাধ্যমে তার (wire) ছাড়াই বিদ্যুৎ পরিবহন সফল হবে । এবিষয়ে NRL এর বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণার পরে এই নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে।


বিজ্ঞানীরা এক কিলোমিটারের (০.৬২১ মাইল) বেশি দূরত্বে ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা Scope M নামক প্রজেক্টের মাধ্যমে একটি নয় বরং দু দুটো স্থানে – মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ইউএস আর্মি রিসার্চ ফিল্ড এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) তে থাকা দ্য হেস্ট্যাক আলট্রাওয়াইডব্যান্ড স্যাটেলাইট ইমেজিং রাডারের ট্রান্সমিটারে এই কাজটি সফলভাবে করতে পেরেছেন। ১০ গিগা হার্জ বিশিষ্ট মাইক্রোওয়েভ বিমের দ্বারা এই কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথমে তড়িৎশক্তিকে মাইক্রোওয়েভে রূপান্তরিত করে তারপরে রেক্টিফয়িং অ্যান্টেনার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে টাইট বিম হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, তার ছাড়াই ইলেকট্রিসিটি ট্রান্সফারের এই ভাবনা এই প্রথম নয়। বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা টেসলা কয়েলের মাধ্যমে ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফারের কথা বলেছিলেন। তাই বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কারের ফলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো সত্যিই আমরা তার (wire) ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবো।