আপনি কী দুটো গাছের মধ্যে কলম করতে চান? তাহলে এই খবরটি আপনার জন্য। কলম করার জন্য শুধু দুটো গাছের ডাল একসাথে জোড়া দিয়ে বেঁধে দিলেই কলম সম্পন্ন হয় না। অনেকসময়ই দেখা যায় কলম করার জন্য গাছদুটোর শাখাপ্রশাখার অংশ অনেকদিন বেঁধে দেওয়ার পরেও তা জোড়া লাগে না। অনেকসময় গাছটি শুকিয়ে মরে যেতে শুরু করে। তাই কলম করার সময় যথেষ্ট সাবধানতা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস মাথায় রাখবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই টিপসগুলো সম্পর্কে।
• কলম/গ্রাফটিং করার সময় এই জিনিসগুলো মাথায় রাখবেন?
১) যেই গাছটিতে কলম করতে চাইছেন সেটি সুস্থ ও সতেজ কিনা তা লক্ষ্য রাখবেন। যদি গাছটি দুর্বল প্রকৃতির হয় তাহলে তার বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং তার সাথে অন্য গাছের ডাল এনে কলম করতে চাইলে তাও সফল হবে না।

২) প্রতিটি গাছেরই একটি নির্দিষ্ট সুপ্ততা পর্যায় (Dormancy Period) থাকে। এই সময় গাছটিতে কলম করতে চাইলে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

৩) সুপ্ততা পর্যায়ের পরবর্তী সময়ই গাছে কলম করার আদর্শ সময়। এই সময় গাছটির বৃদ্ধি পুনরায় সচল থাকে। তাই Dormancy পিরিয়ডের পরবর্তী সময়ে গাছে কলম করলে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল হয়।

৪) কখনোই অতিরিক্ত গরম কিংবা অতিরিক্ত শীতের সময় গ্রাফটিং করবেন না। এই সময় কলম সফল হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট কম। বর্ষাকালের সময়ই আপনি দুটো গাছের মধ্যে কলম করতে পারেন।

৫) একটি ভালো কলমের জন্য গাছদুটোর কাটা অংশকে (রুটস্টক ও সিয়ন) ভালোভাবে জোড়া লাগাতে হবে। অনেকসময়ই রুটস্টক ও সিয়ন ভালোভাবে জোড়া না লাগার ফলে গাছদুটোর মধ্যে কলম করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই যদি গাছদুটোর মধ্যে গ্রাফটিং করতে চান তাহলে রুটস্টক ও সিয়নের মাঝখানে পুনরায় আরও একটি করে খাঁজ করে নেবেন। সেই খাঁজগুলো একসাথে জোড়া লাগিয়ে তার ওপরে শক্ত বাঁধন দিয়ে দেবেন। তাহলেই দেখবেন কিছুদিন পরে ওই দুটো অংশ জোড়া লেগে গেছে এবং কলমটি সম্পন্ন হয়েছে।

৬) রুটস্টক ও সিয়ন একই রকম মাপের হলে কলমগুলো সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একই মাপের সিয়ন ও রুটস্টক গুলোকে একসঙ্গে ভালোভাবে খাঁজের মাধ্যমে মিলিয়ে দিলে সহজেই উদ্ভিদের খাদ্যরস ও পুষ্টিসামগ্রী সহজেই রুটস্টক থেকে সিয়নের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারে। ফলে কলম করা উদ্ভিদটির বৃদ্ধি সচল থাকে।

৭)  V কলম, চোখ কলম কিংবা বাকল কলম ইত্যাদি যেকোনো রকম কলমের ক্ষেত্রেই সিয়নটি ভালোভাবে বেছে নিন। সিয়ন কাটার সময় লক্ষ্য রাখবেন সেই সিয়নের মধ্যে নতুন শাখা বেরোনোর চিহ্ন রয়েছে কিনা। এইরকম সিয়ন রুটস্টকের সঙ্গে জোড়া লাগালে গ্রাফটিং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সফল হয়।

৮) বাকল কলম ও চোখ কলমের ক্ষেত্রে সিয়ন নির্বাচনের সময় লক্ষ্য রাখবেন যে সমস্ত অংশগুলোতে ইতিমধ্যেই শাখা গজিয়ে গিয়েছে সেগুলোকে সিয়ন হিসেবে সিলেক্ট করবেন না। যেসমস্ত শাখার গোড়ার অংশ থেকে নতুন শাখাপ্রশাখা তৈরী হয়নি কিন্ত পরবর্তীতে গজানোর চিহ্ন রয়েছে সেগুলোকেই চোখ হিসেবে বেছে নিবেন।

৯) সঠিকভাবে কলম করার জন্য গাছদুটোর অংশকে ভালোভাবে গ্রাফটিং টেপ দিয়ে বাধঁতে হবে। এমনভাবে বাধঁতে হবে বাইরের জল বা অন্যান্য কিছু ওই জোড়া লাগানোর অংশে প্রবেশ না করে। বাইরের তাপমাত্রা ও ভেতরের তাপমাত্রাও আলাদা রাখতে হবে। গ্রাফটিং এর জন্য টেপ দিয়ে যতটা শক্ত করে বাধঁতে পারবেন ততটাই কলমের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হবে।

১০) কলম করার পরে অনেকসময় জোড়া লাগানোর অংশটিকে ঢেকে রাখার দরকার পড়ে। নির্দিষ্ট কিছুদিন পরে ঢেকে রাখার আবরণ সরিয়ে দেওয়ার পরেও সঙ্গে সঙ্গেই গাছটিকে সূর্যের আলোয় নিয়ে আসবেন না। অন্তত দু’সপ্তাহ পরে কলমটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে গাছটিকে পুনরায় সূর্যালোকের সামনে রাখতে পারেন।

১১) কলম করার জন্য গ্রাফটিং করার পরে গাছটিকে বেশি নাড়াচাড়া করবেন না। এতে জোড়া লাগানো অংশদুটোর মধ্যে মিলন ব্যাহত হতে পারে এবং ঠিকমতো কলম নাও হতে পারে।


উপরোক্ত এই সমস্ত পরামর্শগুলো সঠিকভাবে পালন করলে দেখবেন আপনার গাছদুটোর মধ্যে কলম একদম সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।