West-Bengal-Government-initiates-new-scheme-named-Bhavishya-Nidhi-Prakalpa

রাজ্যের সকল অস্থায়ী শ্রমিক এবং জমিহীন কৃষকদের জন্য রয়েছে দারুণ সুখবর। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের তরফে সাধারণ মানুষদের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প কার্যকরী করা হয়েছে। কৃষক থেকে শুরু করে শ্রমিক, শিশু কিংবা নারী সকল সাধারণ মানুষই এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির আওতায় রয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হলো ভবিষ্যনিধি প্রকল্প (Bhavishya Nidhi Prakalpa)। এই প্রকল্পের আওতায় যেসকল কৃষকের জমি নেই তারা কিংবা স্বল্প জমির অধিকারী কৃষক, অস্থায়ী নির্মাণ কর্মী, পরিবহণ কর্মী, অস্থায়ী শ্রমিকরা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে চলেছেন। তবে অনেকেই জানেন না এই প্রকল্পের অধীনে তারা কি কি সুবিধা পেতে চলেছেন কিংবা এই প্রকল্পের ভাতার জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে আবশ্যিক যোগ্যতা কি কি। আর তাই আজ আমরা জনসাধারণের সাহায্যের খাতিরে এই ভবিষ্যনিধি প্রকল্পে আবেদনের আবশ্যক যোগ্যতা, অনুদান, এই প্রকল্পের আওতায় থাকা ব্যক্তিরা কি কি সুবিধা পাবেন এই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি।

• এই প্রকল্পে আবেদনের ক্ষেত্রে আবশ্যিক যোগ্যতা:-
রাজ্য সরকারের তরফে যেসকল প্রকল্পগুলোতে অনুদান প্রদান করা হয়ে থাকে সেই প্রকল্পগুলোতে অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে এক একটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই শর্তগুলো ভিন্ন ভিন্ন। এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যে শর্তগুলি পূরণ করতে হবে সেগুলি হলো:-
১. আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
২. আবেদনকারীর বাস্তুজমি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি মিলিয়ে যেন ৫০ শতকের বেশি জমি না থাকে। যেসকল ব্যক্তির ৫০ শতকের বেশি জমি রয়েছে তারা এই প্রকল্পে আবেদনের যোগ্য নন।
৩. এই প্রকল্পে আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৮ বছর হতে হবে।
৪. আবেদনকারীর পারিবারিক বার্ষিক আয় অবশ্যই ৬৫ হাজার টাকার কম হতে হবে।
৫. এই প্রকল্পে আবেদনের ক্ষেত্রে নির্মাণ কর্মী এবং পরিবহণ কর্মীদের আয়ের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই।

বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে BSNL কোম্পানিতে কর্মী নিয়োগ, আজই আবেদন করুন

• এই প্রকল্পে কি কি সুবিধা পাবেন আপনারা:-
১. এই প্রকল্পের অধীনে থাকা ব্যক্তিদের তাদের ৬০ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ২০ টাকা করে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের তরফে প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্ট আমানতের টাকা এই প্রকল্পের অধীনে থাকা ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে। এরপর ওই ব্যক্তির ৬০ বছর বয়স হলে অথবা কোনো কারণে ৬০ বছরের পূর্বে মৃত্যু হলে এতোদিন ধরে জমানো সমস্ত টাকা সুদসহ ওই ব্যক্তিকে কিংবা তার মনোনীত/বৈধ উত্তরাধিকারীকে দেওয়া হবে।
২. এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতাধীন ব্যক্তির ৬০ বছরের পূর্বে দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের তরফে।
৩. উপভোক্তার ৬০ বছরের পূর্বে কোনো দুর্ঘটনার কারণে শরীরের ৪০ শতাংশ অকার্যকর হয়ে গেলে ওই উপভোক্তাকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।
৪. ৬০ বছরের পূর্বে কোনো দুর্ঘটনার কারণে এই প্রকল্পের আওতাধীন ব্যক্তি দুটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারালে কিংবা দুটি হাতের কাজ করার ক্ষমতা অথবা দুটি পায়ের চলার শক্তি হারালে ২,০০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন।
৫. অন্যদিকে দুর্ঘটনার কারণে উপভোক্তা এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারালে ১,০০,০০০ টাকার অনুদান পাবেন।

• ভবিষ্যনিধি প্রকল্পের অধীনে নাম নথিভুক্ত করার জন্য কিভাবে আবেদন করবেন:-
১. এই প্রকল্পে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে আপনাদের অবশ্যই অফলাইনে আবেদন করতে হবে। এর জন্য আপনাকে প্রথমেই ভবিষ্যনিধি প্রকল্পে আবেদনের ক্ষেত্রে বিডিও অফিসে কিংবা ভূমি দপ্তর থেকে আবশ্যিক ফর্মটি সংগ্রহ করতে হবে।
২. এরপর আপনাকে প্রথমেই সঠিক স্থানে আপনার নাম, বয়স, জন্ম তারিখ সঠিক ভাবে পূরণ করতে হবে।
৩. এরপর ওই ফর্মে আপনার যে জমি রয়েছে তার দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
৪. তারপর আপনি যে ব্যক্তিকে আপনার নমিনী হিসেবে রাখতে চান তার নাম এবং আপনার সাথে তার সম্পর্ক উল্লেখ করতে হবে।
৫. এরপর ওই ফর্মে ঠিকানা এবং তারিখ সহ আপনার পূর্ণ নাম সাক্ষর করতে হবে।

আপনার মোবাইল 5G নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে কিনা, জেনে নিন মাত্র ১ মিনিটে

৬. এরপর ফর্মটির পার্ট ২ এ আপনি যে ভবিষ্যনিধি প্রকল্পের নাম নথিভুক্ত করার উপযুক্ত এবং আপনার জমির পরিমাণ উল্লেখ করে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য/ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য/ জেলা পরিষদের সদস্যর থেকে সাক্ষর করাতে হবে। এর পাশাপাশি বি. এল. এল. আর. ও এর থেকে এই একই বিষয়ে সম্মতি দিয়ে সাক্ষর করাতে হবে।
৭. এরপর ওই ফর্মের সাথে যে মনোনয়ন পত্রটি রয়েছে তাতে আপনার নাম, ঠিকানা, নমিনীর নাম এবং তার সাথে আপনার সম্পর্ক, বর্ণিত নমিনি মারা গেলে অন্য যাকে আপনি নমিনী করতে চান তার নাম উল্লেখ করতে হবে।
৮. উপরোক্ত সমস্ত তথ্যগুলি সঠিকভাবে পূরণ করে ওই মনোনয়ন পত্রে আপনি সাক্ষর করবেন এবং আপনার পূরণ করা তথ্যগুলি সত্য এরূপ সম্মতি প্রদান করে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যের থেকে সই করাতে হবে।
৯. সবশেষে মনোনয়ন পত্রে আপনার ঠিকানা এবং ফর্ম জমা দেওয়ার তারিখ উল্লেখ করতে হবে।
১০. সবশেষে ফর্মের সাথে সমস্ত নথি সহ ফর্মটি বিডিও অফিসে কিংবা ভূমি দপ্তরে জমা করতে হবে।

• আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি:-
১. আবেদনকারীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ফটো।
২. ভোটার কার্ডের প্রতিলিপি।
৩. আধার কার্ডের প্রতিলিপি।
৪. ব্যাংকের প্রথম পৃষ্ঠার প্রতিলিপি।
৫. জমির রেকর্ডের প্রতিলিপি।

এইরকম আরও নানান গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে আমাদের পেজটি ফলো করুন এবং নীচের ডানদিকের আইকনে ক্লিক করে আজই যুক্ত হোন আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে