চাকরির খবর

টেটের রেজাল্টে ধরা পরলো বড়োসড়ো গলদ, ফের আদালতমুখী হতে হলো পর্ষদকে

প্রাইমারি টেট এবং টেটের রেজাল্ট নিয়ে পুনরায় বিতর্কের আভাস। একের পর এক বিতর্কের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পর্ষদের নব নিযুক্ত সভাপতি শ্রী গৌতম পাল মহাশয়ের তরফে জানানো হয়েছিলো যে, আগামী ডিসেম্বর মাসের ১১ তারিখে অর্থাৎ ১১ই ডিসেম্বর,২০২২ তারিখে নতুন করে টেট পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, আগামী দিনে টেট নিয়ে যাতে কোনোরকম দুর্নীতি না হয় তার দিকে নজর রাখবেন তিনি। নতুন করে টেট পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি পর্ষদের তরফে চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ১১ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিলো।

এর পাশাপশি পর্ষদের তরফে পরীক্ষার্থীদের সাহায্য করার জন্য সিলেবাস, মডেল প্রশ্নপত্র পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়েছিলো। তবে সেখানেই শেষ নয়, ইতিপূর্বে ১৪ই অক্টোবর থেকে টেট পরীক্ষা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া কার্যকরী করা হয়েছিলো পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থাকে। আর আগত ১৪ই নভেম্বর টেট পরীক্ষা এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদনের ক্ষেত্রে সময়সীমা শেষও হতে চলেছে। সুতরাং, চাকরিপ্রার্থীদের হাতে আর মাত্র দুদিন সময় রয়েছে। তবে বিতর্ক অন্য ক্ষেত্রে। ইতিপূর্বে ২০১৪ সালে এবং ২০১৭ সালে যেসমস্ত চাকরিপ্রার্থীরা টেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের রেজাল্ট প্রকাশিত না হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্নরকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছিলো।

আর যথারীতি তারা এই ব্যাপারটি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো যাতে মামলাকারিদের আইনজীবী এবং পর্ষদের কর্তা ব্যক্তিরা এবিষয়ে বৈঠক করে ব্যাপারটির সুরাহা করেন। যার জেরে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে ৭ই নভেম্বর,২০১৭ সালের পরীক্ষার্থীদের ফলাফল এবং গতকাল অর্থাৎ ১১ই নভেম্বর,২০১৪ সালের পরীক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও গতকাল ২০১৪ সালের পরীক্ষার্থীদের রেজাল্টের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেটি এখন‌ও পর্যন্ত অসম্পূর্ণ রয়েছে বলেই জানানো হয়েছে পর্ষদের পক্ষ থেকে। এ নিয়ে বিতর্কের আঁচ এখনো পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে ছুঁতে না পারলেও ২০১৭ সালের পরীক্ষার্থীদের রেজাল্ট নিয়ে বিতর্ক ফের আদালতমুখী করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে।

প্রকাশিত হলো ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার রেজাল্ট, পিডিএফ ডাউনলোড করুন

ইতিমধ্যেই পর্ষদের তরফে ২০১৭ সালে চাকরি প্রার্থীদের যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ধরা পড়েছে রীতিমতো বড়োসড়ো গলদ। আর তা নিয়েই আরও একবার আদালত এক নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের তরফে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে যে, জানুয়ারি মাসে এক চাকরিপ্রার্থী আরটিআই এর মাধ্যমে জানতে পারেন তিনি ২০১৭ সালের টেট পরীক্ষায় ২৪ নম্বর পেয়েছেন কিন্তু ৭ই নভেম্বর সোমবার পর্ষদের তরফে ২০১৭ সালের সমস্ত চাকরিপ্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হলে ওই পরীক্ষার্থী দেখতে পান যে তিনি টেটে ৮৫ নম্বর পেয়েছেন। আর এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত।

ইতিমধ্যেই নিজের সমস্যা নিয়ে ওই চাকরিপ্রার্থী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং প্রমাণস্বরূপ তিনি আদালতের কাছে আরটিআই (RTI) করে পাওয়া ওয়েমার শিটও দাখিল করেছেন। ওই মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুসারে, এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তাকে এবিষয়ে মামলা করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে শুধু যে একজন চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে তা নয়। এরকম বহু চাকরিপ্রার্থী রয়েছেন যাদের ক্ষেত্রে নম্বর নিয়ে এরূপ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, বিভিন্ন রিপোর্ট অনুসারে এমনটাই জানা গিয়েছে। যদিও এই বিতর্ক নিয়ে এখনও পর্যন্ত কিছুই জানানো হয়নি পর্ষদের তরফে। মামলার ফলাফল কি হতে চলেছে তার দিকেই নজর রয়েছে সমগ্র বাংলার চাকরিপ্রার্থীদের।

পর্ষদের তরফে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ২০১৪ এবং ২০১৭ সালের চাকরিপ্রার্থীদের রেজাল্ট প্রকাশ্যে আনায় এবং টেট পরীক্ষা আয়োজন করা থেকে শুরু করে আবেদনের বিষয়গুলি সম্পন্ন করার তাগিদে যথারীতি খুশি ছিলেন সমগ্র রাজ্যে চাকরি প্রার্থীরা। তবে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের এই নতুন গলদ সামনে আসায় আবারও মুষড়ে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এর পাশাপাশি অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ২০১৪ সালের চাকরিপ্রার্থীদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হলে তাতেও নানা প্রকার গলদ সামনে আসতেই পারে। চাকরিপ্রার্থীদের হাতে আর মাত্র দুদিন সময় রয়েছে টেট এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য। এখনও পর্যন্ত ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এবারে নতুন করেই বিতর্ক শুরু হওয়ায় পর্ষদের তরফে কবে তা প্রকাশ করা হবে তা নিয়ে রীতিমতো আশঙ্কায় রয়েছেন সমগ্র রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button